Dhaka , Monday, 26 October 2026
সর্বশেষ
ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগে যশোরে বিরোধী দলের ৫ এমপির সংবাদ সম্মেলন ডহুরী-কাকবাধালে রশি টানা খেলায় উৎসাহ দিলেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রফিকুল ইসলাম, খেলোয়াড়দের দিলেন টি-শার্ট চৌগাছায় সারের ডিলারশিপ পেতে জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির বিরুদ্ধে খুলনায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে ইমামদের প্রশিক্ষণ ভাতা কম দেওয়ার অভিযোগ, প্রতি ব্যাচে এক লাখ টাকা করে আত্মসাৎ* রাজপথের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করা ত্যাগের রাজনীতি: সব যোগ্যতা পেরিয়ে ডিলারশিপ পেয়েও অপপ্রচারের মুখে প্রবীণ বিএনপি নেতার পরিবার গাজীপুরে কারখানা কর্মকর্তার ধমকের পর ফ্লোরে ঢলে পড়ে নারী পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু: ছুটি না দেওয়া ও অবহেলার অভিযোগ যশোরে ঘর থেকে বৃদ্ধার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার লালনের দর্শন মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অনন্য দৃষ্টান্ত: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী উপজেলা বিএনপির শীর্ষ দুই পদে প্রধান শিক্ষক বললেন, ‘আমরা সরকারি চাকরি ছেড়ে দেবো’

রাজপথের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করা ত্যাগের রাজনীতি: সব যোগ্যতা পেরিয়ে ডিলারশিপ পেয়েও অপপ্রচারের মুখে প্রবীণ বিএনপি নেতার পরিবার

  • Reporter Name
  • Update Time : 08:00 pm, Wednesday, 21 October 2026
  • 104 Time View

রাজপথের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করা ত্যাগের রাজনীতি: সব যোগ্যতা প্রবীণ বিএনপি নেতার পরিবার
বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন | চৌগাছা (যশোর)
বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চরম রাজনৈতিক নিপীড়ন, নির্যাতন আর বঞ্চনার শিকার হয়েছে যশোরের চৌগাছার এক ঐতিহ্যবাহী পরিবার। শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যিনি রাজপথে হাল ধরেছিলেন, সেই প্রবীণ নেতা আজ বয়সের ভারে শয্যাশায়ী। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজপথ কাঁপানো ছাত্রনেতা ছেলে রাজনৈতিক ট্যাগের কারণে বিসিএস ক্যাডারশিপে ব্যর্থ হওয়া ও সরকারি ব্যাংকের চাকরি হারিয়ে আজ ধরেছেন বাবার কৃষি ও ব্যবসা।
কথা হচ্ছে চৌগাছা উপজেলার ফুলসরা ইউনিয়নের প্রবীণ বিএনপি নেতা জনাব রুস্তম আলী এবং তাঁর সুযোগ্য সন্তান মোঃ ইয়াসিন আরাফাত মিলনকে নিয়ে। সম্প্রতি সরকারি নীতিমালার শতভাগ শর্ত পূরণ করে ইউনিয়নের এক নম্বর যোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারি সারের ডিলারশিপ পেয়েছে তাঁদের প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স রুস্তম আলী ট্রেডার্স’। তবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া এই ডিলারশিপ নিয়ে সুবিধাবাদী একটি মহল মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারে মেতে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জনাব রুস্তম আলী বিএনপি’র প্রতিষ্ঠালগ্নেই দলের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। তিনি প্রথমে গ্রাম সরকার সচিব, ১৯৮৪ সালে ফুলসরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতির পদ সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
বিগত ১৭ বছর রুস্তম আলীর পরিবারের উপর দিয়ে গিয়েছে আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীর নজিরবিহীন নির্যাতন। ২০১০ সালে আওয়ামী সরকার গঠনের শুরুতেই তাঁর বাড়িতে প্রথম চৌগাছা উপজেলার রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন আপন ভাতিজা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল রাসেল। এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়ে বুকে ক্ষত নিয়ে বেঁচে আছেন তাঁর আর এক ভাতিজা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুক্তার আলী। যশোর জেলা বিএনপি ঘোষিত শহীদ পরিবারের তালিকায় এই পরিবার জেলার মধ্যে অন্যতম।
তাঁর সন্তান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইয়াসিন আরাফাত মিলনকে বিএনপি পরিবারের সন্তান হওয়ার কারণে দিতে হয়েছে চড়া মাশুল। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় দুই দুইবার ভাইভা (মৌখিক পরীক্ষা) দিয়েও চূড়ান্ত তালিকায় নাম আসেনি শুধুমাত্র পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে। বহু কাঠখড় পুড়িয়ে সোনালী ব্যাংকের প্রথম শ্রেণির পদে যোগ দিলেও ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক মানসিক নির্যাতনে চাকরি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। অগত্যা ঢাকায় সব সম্ভাবনা বিসর্জন দিয়ে গ্রামে ফিরে অসুস্থ বাবার কৃষি ও ব্যবসায় মন দেন মিলন।
ঐতিহাসিক ৫ই আগস্টের দিন ফুলসরা ইউনিয়ন থেকে যে মিছিল বের হয়, নিজে ঠিকমত হাঁটতে না পারলেও লাঠিতে ভর দিয়ে এবং অন্যের কাঁধে ভর দিয়ে সেই মিছিলের নেতৃত্ব দেন এই রুস্তম আলী। তাঁর শরীর সায় না দিলেও মূলত মনের জোরে, বিগত ১৭ বছরের মনের কষ্ট একটু লাঘব করার জন্য এবং বিএনপির পতাকা আবার তুলে ধরার জন্য সেদিন তাঁকে কেউ আটকাতে পারেনি। এখন তিনি পুরোপুরি বিছানায়, কিন্তু মনের কিনারায় এখনো উঁকি দেয় বিএনপির পতাকা।
সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৫’ অনুযায়ী ইউনিয়নভিত্তিক ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে উপজেলা ও জেলা বাছাই কমিটির সার্বিক মূল্যায়নে শতভাগ যোগ্যতা প্রমাণ করে ১ম স্থান অর্জন করে ‘মেসার্স রুস্তম আলী ট্রেডার্স’।
নীতিমালায় ন্যূনতম ৫০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার গোডাউনের শর্ত থাকলেও মেসার্স রুস্তম আলী ট্রেডার্সের রয়েছে ২০০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার নিজস্ব সুবিশাল গোডাউন। অন্যান্য আবেদনকারীদের অনেকেরই নিজস্ব গোডাউন ছিল না। তাছাড়া কারো কারো আপন ভাই বিএডিসি বা অন্য ডিলারশিপে বহাল থাকা সত্ত্বেও আবেদন করেছেন—যা নতুন নীতিমালার ৩.১১ অনুচ্ছেদের স্পষ্ট লঙ্ঘন। সেখানে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রেখেছে এই প্রতিষ্ঠানটি।
যে পরিবারটি বিগত ১৭ বছর ইউনিয়নে বিএনপি’র অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে নিজেদের জীবন-যৌবন বাজি রেখেছিল, আজ তাদের সাফল্যেই বিষোদগার করছে এক শ্রেণীর সুযোগসন্ধানী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে যারা আওয়ামী লীগের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ চৌধুরীর সাথে আঁতাত করে সব সুবিধা লুটে নিয়েছে, তারাই এখন রাতারাতি ‘নব্য বিএনপি’ সেজে মিথ্যা রটাচ্ছে।
ইউনিয়নের এক প্রবীণ বিএনপি নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“বিগত দেড় দশক ধরে যখন রাজপথে বুলেট আর মামলার ভয় ছিল, তখন এই রুস্তম আলীর পরিবারই ইউনিয়ন বিএনপিকে বাঁচিয়ে রেখেছিল। আর আজ ক্ষমতার বাতাস বদলাতেই সুবিধাবাদীরা আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
সামাজিক ও রাজনৈতিক এই অপপ্রচারে গভীরভাবে মর্মাহত ইয়াসিন আরাফাত মিলন। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন:
“আমার বাবা ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে পুরোপুরি শয্যাশায়ী। তিনি ফুলসরা ইউনিয়ন বিএনপির অন্যতম কাণ্ডারী ছিলেন এবং চৌগাছা উপজেলা বিএনপির অন্যতম সারথি। চরম দুঃসময়েও কখনো দলের সাথে বেঈমানি করেননি। আমি নিজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি করার অপরাধে বিসিএস ও ব্যাংকের চাকরি হারিয়েছি। আজ আমরা কোনো অনিয়ম করে ডিলারশিপ পাইনি; সরকারি সব মানদণ্ড ও ২০০ মেট্রিক টন গোডাউন ক্ষমতা দেখিয়ে মেধার ভিত্তিতে ডিলারশিপ পেয়েছি। আমার বাবা ২০০৮ সালের পরে আর জীবনে কোনোদিন ভোটকেন্দ্রে যাননি – এটা আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি। কিন্তু তারপরেও যারা আজ বাবার নামে ও আমাদের পরিবার নিয়ে মিথ্যা কথা বলছে, তাদের অতীত ইতিহাস ঘেঁটে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
চৌগাছার সাধারণ মানুষ ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মতে, সরকারি নীতিমালার শতভাগ নিয়ম মেনে ডিলারশিপ প্রদান করা হয়েছে। ত্যাগী ও নির্যাতিত পরিবারকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যেই এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা তৃণমূল বিএনপি ও সচেতন মহল কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

Tag :
About Author Information

Popular Post

ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগে যশোরে বিরোধী দলের ৫ এমপির সংবাদ সম্মেলন

রাজপথের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করা ত্যাগের রাজনীতি: সব যোগ্যতা পেরিয়ে ডিলারশিপ পেয়েও অপপ্রচারের মুখে প্রবীণ বিএনপি নেতার পরিবার

Update Time : 08:00 pm, Wednesday, 21 October 2026

রাজপথের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করা ত্যাগের রাজনীতি: সব যোগ্যতা প্রবীণ বিএনপি নেতার পরিবার
বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন | চৌগাছা (যশোর)
বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চরম রাজনৈতিক নিপীড়ন, নির্যাতন আর বঞ্চনার শিকার হয়েছে যশোরের চৌগাছার এক ঐতিহ্যবাহী পরিবার। শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যিনি রাজপথে হাল ধরেছিলেন, সেই প্রবীণ নেতা আজ বয়সের ভারে শয্যাশায়ী। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজপথ কাঁপানো ছাত্রনেতা ছেলে রাজনৈতিক ট্যাগের কারণে বিসিএস ক্যাডারশিপে ব্যর্থ হওয়া ও সরকারি ব্যাংকের চাকরি হারিয়ে আজ ধরেছেন বাবার কৃষি ও ব্যবসা।
কথা হচ্ছে চৌগাছা উপজেলার ফুলসরা ইউনিয়নের প্রবীণ বিএনপি নেতা জনাব রুস্তম আলী এবং তাঁর সুযোগ্য সন্তান মোঃ ইয়াসিন আরাফাত মিলনকে নিয়ে। সম্প্রতি সরকারি নীতিমালার শতভাগ শর্ত পূরণ করে ইউনিয়নের এক নম্বর যোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারি সারের ডিলারশিপ পেয়েছে তাঁদের প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স রুস্তম আলী ট্রেডার্স’। তবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া এই ডিলারশিপ নিয়ে সুবিধাবাদী একটি মহল মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারে মেতে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জনাব রুস্তম আলী বিএনপি’র প্রতিষ্ঠালগ্নেই দলের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। তিনি প্রথমে গ্রাম সরকার সচিব, ১৯৮৪ সালে ফুলসরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতির পদ সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
বিগত ১৭ বছর রুস্তম আলীর পরিবারের উপর দিয়ে গিয়েছে আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীর নজিরবিহীন নির্যাতন। ২০১০ সালে আওয়ামী সরকার গঠনের শুরুতেই তাঁর বাড়িতে প্রথম চৌগাছা উপজেলার রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন আপন ভাতিজা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল রাসেল। এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়ে বুকে ক্ষত নিয়ে বেঁচে আছেন তাঁর আর এক ভাতিজা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুক্তার আলী। যশোর জেলা বিএনপি ঘোষিত শহীদ পরিবারের তালিকায় এই পরিবার জেলার মধ্যে অন্যতম।
তাঁর সন্তান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইয়াসিন আরাফাত মিলনকে বিএনপি পরিবারের সন্তান হওয়ার কারণে দিতে হয়েছে চড়া মাশুল। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় দুই দুইবার ভাইভা (মৌখিক পরীক্ষা) দিয়েও চূড়ান্ত তালিকায় নাম আসেনি শুধুমাত্র পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে। বহু কাঠখড় পুড়িয়ে সোনালী ব্যাংকের প্রথম শ্রেণির পদে যোগ দিলেও ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক মানসিক নির্যাতনে চাকরি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। অগত্যা ঢাকায় সব সম্ভাবনা বিসর্জন দিয়ে গ্রামে ফিরে অসুস্থ বাবার কৃষি ও ব্যবসায় মন দেন মিলন।
ঐতিহাসিক ৫ই আগস্টের দিন ফুলসরা ইউনিয়ন থেকে যে মিছিল বের হয়, নিজে ঠিকমত হাঁটতে না পারলেও লাঠিতে ভর দিয়ে এবং অন্যের কাঁধে ভর দিয়ে সেই মিছিলের নেতৃত্ব দেন এই রুস্তম আলী। তাঁর শরীর সায় না দিলেও মূলত মনের জোরে, বিগত ১৭ বছরের মনের কষ্ট একটু লাঘব করার জন্য এবং বিএনপির পতাকা আবার তুলে ধরার জন্য সেদিন তাঁকে কেউ আটকাতে পারেনি। এখন তিনি পুরোপুরি বিছানায়, কিন্তু মনের কিনারায় এখনো উঁকি দেয় বিএনপির পতাকা।
সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৫’ অনুযায়ী ইউনিয়নভিত্তিক ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে উপজেলা ও জেলা বাছাই কমিটির সার্বিক মূল্যায়নে শতভাগ যোগ্যতা প্রমাণ করে ১ম স্থান অর্জন করে ‘মেসার্স রুস্তম আলী ট্রেডার্স’।
নীতিমালায় ন্যূনতম ৫০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার গোডাউনের শর্ত থাকলেও মেসার্স রুস্তম আলী ট্রেডার্সের রয়েছে ২০০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার নিজস্ব সুবিশাল গোডাউন। অন্যান্য আবেদনকারীদের অনেকেরই নিজস্ব গোডাউন ছিল না। তাছাড়া কারো কারো আপন ভাই বিএডিসি বা অন্য ডিলারশিপে বহাল থাকা সত্ত্বেও আবেদন করেছেন—যা নতুন নীতিমালার ৩.১১ অনুচ্ছেদের স্পষ্ট লঙ্ঘন। সেখানে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রেখেছে এই প্রতিষ্ঠানটি।
যে পরিবারটি বিগত ১৭ বছর ইউনিয়নে বিএনপি’র অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে নিজেদের জীবন-যৌবন বাজি রেখেছিল, আজ তাদের সাফল্যেই বিষোদগার করছে এক শ্রেণীর সুযোগসন্ধানী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে যারা আওয়ামী লীগের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ চৌধুরীর সাথে আঁতাত করে সব সুবিধা লুটে নিয়েছে, তারাই এখন রাতারাতি ‘নব্য বিএনপি’ সেজে মিথ্যা রটাচ্ছে।
ইউনিয়নের এক প্রবীণ বিএনপি নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“বিগত দেড় দশক ধরে যখন রাজপথে বুলেট আর মামলার ভয় ছিল, তখন এই রুস্তম আলীর পরিবারই ইউনিয়ন বিএনপিকে বাঁচিয়ে রেখেছিল। আর আজ ক্ষমতার বাতাস বদলাতেই সুবিধাবাদীরা আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
সামাজিক ও রাজনৈতিক এই অপপ্রচারে গভীরভাবে মর্মাহত ইয়াসিন আরাফাত মিলন। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন:
“আমার বাবা ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে পুরোপুরি শয্যাশায়ী। তিনি ফুলসরা ইউনিয়ন বিএনপির অন্যতম কাণ্ডারী ছিলেন এবং চৌগাছা উপজেলা বিএনপির অন্যতম সারথি। চরম দুঃসময়েও কখনো দলের সাথে বেঈমানি করেননি। আমি নিজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি করার অপরাধে বিসিএস ও ব্যাংকের চাকরি হারিয়েছি। আজ আমরা কোনো অনিয়ম করে ডিলারশিপ পাইনি; সরকারি সব মানদণ্ড ও ২০০ মেট্রিক টন গোডাউন ক্ষমতা দেখিয়ে মেধার ভিত্তিতে ডিলারশিপ পেয়েছি। আমার বাবা ২০০৮ সালের পরে আর জীবনে কোনোদিন ভোটকেন্দ্রে যাননি – এটা আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি। কিন্তু তারপরেও যারা আজ বাবার নামে ও আমাদের পরিবার নিয়ে মিথ্যা কথা বলছে, তাদের অতীত ইতিহাস ঘেঁটে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
চৌগাছার সাধারণ মানুষ ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মতে, সরকারি নীতিমালার শতভাগ নিয়ম মেনে ডিলারশিপ প্রদান করা হয়েছে। ত্যাগী ও নির্যাতিত পরিবারকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যেই এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা তৃণমূল বিএনপি ও সচেতন মহল কোনোভাবেই মেনে নেবে না।