Dhaka , Tuesday, 27 October 2026
সর্বশেষ
ডুমুরিয়ায় মানকচু বাম্পার ফলন: কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগে যশোরে বিরোধী দলের ৫ এমপির সংবাদ সম্মেলন ডহুরী-কাকবাধালে রশি টানা খেলায় উৎসাহ দিলেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রফিকুল ইসলাম, খেলোয়াড়দের দিলেন টি-শার্ট চৌগাছায় সারের ডিলারশিপ পেতে জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির বিরুদ্ধে খুলনায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে ইমামদের প্রশিক্ষণ ভাতা কম দেওয়ার অভিযোগ, প্রতি ব্যাচে এক লাখ টাকা করে আত্মসাৎ* রাজপথের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করা ত্যাগের রাজনীতি: সব যোগ্যতা পেরিয়ে ডিলারশিপ পেয়েও অপপ্রচারের মুখে প্রবীণ বিএনপি নেতার পরিবার গাজীপুরে কারখানা কর্মকর্তার ধমকের পর ফ্লোরে ঢলে পড়ে নারী পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু: ছুটি না দেওয়া ও অবহেলার অভিযোগ যশোরে ঘর থেকে বৃদ্ধার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার লালনের দর্শন মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অনন্য দৃষ্টান্ত: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী

রাজপথের রক্তভেজা দিন থেকে জনসেবা: শ্যামকূড় ইউনিয়ন বিএনপির কান্ডারী ও জীবন্ত কিংবদন্তি এস এম আনিছুর রহমান লিটন

  • Reporter Name
  • Update Time : 12:06 am, Monday, 17 August 2026
  • 164 Time View

বিশেষ প্রতিনিধি, মনিরামপুর:

পিচঢালা রাজপথ যখন তপ্ত রোদের প্রখর তাপদাহে পুড়ে ছারখার হয় কিংবা শ্রাবণের মরণকামড় বসানো মুষলধারার বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হয়ে যায়, তখন সুবিধাবাদী একদল মানুষ নিরাপদে ঘরে ফিরে যায়। কিন্তু কিছু ব্যতিক্রমী মানুষ থেকে যান, যাদের নির্দিষ্ট কোনো ঘর বলে কিছু থাকে না। যাদের ঠিকানা হয়ে ওঠে রাজপথ, মিছিলের অগ্নিকাণ্ড, মিছিলে উচ্চারিত স্লোগানের তীব্র কম্পন আর শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের আপসহীন সংগ্রাম।
গত ১৭ বছরের অবর্ণনীয় ফ্যাসিবাদের জগদ্দল পাথর ও অন্ধকার বুকে চেপে যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার ১২ নম্বর শ্যামকূড় ইউনিয়ন বিএনপির তেমনই এক বিশ্বস্ত কান্ডারী ও জীবন্ত কিংবদন্তির নাম— এস এম আনিছুর রহমান লিটন। যিনি শ্যামকূড় ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক বিপ্লবী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ১২ নম্বর শ্যামকূড় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতা, নিষ্ঠা, সততা ও দক্ষতার সাথে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিগত শাসনামলে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে এস এম আনিছুর রহমান লিটন রাজপথে সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। আর এই সক্রিয় ও আপসহীন ভূমিকার কারণেই তৎকালীন শাসকদল ও স্থানীয় প্রশাসনের চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রধান শিকার হতে হয়েছে তাঁকে।তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করতে এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমাতে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়। বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, গাড়ি পোড়ানো, গাড়ি ভাঙচুর এবং নানাবিধ নাশকতার একাধিক সাজানো মামলায় জড়ানো হয় তাঁকে। অসংখ্য মামলার হুলিয়া ও আইনি হয়রানি সত্ত্বেও তিনি এক মুহূর্তের জন্যও রাজপথ কিংবা জাতীয়তাবাদী আদর্শ থেকে পিছপা হননি।
এস এম আনিছুর রহমান লিটনের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাস এক চিরস্মরণীয় বেদনাবিধুর ও রক্তাঙ্কিত অধ্যায়।২০১৩ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর রাতে মনিরামপুর বাজার থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে পথিমধ্যে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাঁর ওপর অতর্কিত ও নৃশংস হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা তাঁকে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে এবং মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়।হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার: সারারাত নিথর পড়ে থাকার পর দিনভোরে স্থানীয় এলাকাবাসী তাঁকে হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন। লিটন ছিলেন তাঁর মায়ের একমাত্র সন্তান। হাসপাতালে প্রিয় সন্তানের রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থা দেখে সেই তীব্র মানসিক আঘাত সহ্য করতে পারেননি তাঁর রত্নগর্ভা মা। সন্তানের শয্যাপাশেই তাৎক্ষণিক হৃদরোগে (হার্ট অ্যাটাক) আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

দলের আদর্শ ও রাজপথের জন্য নিজের রক্ত দেওয়ার পাশাপাশি মাতৃবিয়োগের এই অপূরণীয় ক্ষত লিটনের জীবনকে চিরদিনের জন্য বদলে দেয়।মায়ের শোক বুকে চেপেও লিটন রাজপথের লড়াকু অবস্থান থেকে বিন্দুপরিমাণ সরেননি। ফলশ্রুতিতে তাঁর ওপর তৎকালীন ক্ষমতার অপব্যবহারকারী চক্রের নির্যাতনের মাত্রা আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
২০১৪ সালের ১৫ই জানুয়ারি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য (এমপি) টিপু সুলতানের প্রত্যক্ষ নির্দেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর (র‍্যাব) একটি দল লিটনকে ‘ক্রসফায়ার’ দেওয়ার উদ্দেশ্যে চারদিক থেকে ঘেরাও করে এবং আক্রমণ চালায়। অলৌকিকভাবে লিটন সেই সন্ত্রাসী আক্রমণ থেকে নিজের প্রাণ বাঁচিয়ে সরে যেতে সক্ষম হন। তবে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে না পেরে ক্ষোভে-আক্রোশে তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিতে আগুন ধরিয়ে ভস্মীভূত করে দেয় বাহিনীটি।
গত ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের পর যখন চারদিকে অনেকেই নিজের আখের গোছাতে আর ক্ষমতার মোহে মত্ত, এস এম আনিছুর রহমান লিটন তখন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষের সেবায়।একদিকে তিনি শ্যামকূড় ইউনিয়ন বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে সুদৃঢ় করছেন, অন্যদিকে ইউনিয়নের স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে হাত দিয়েছেন।
প্রবীণদের বয়স্ক ভাতা নিশ্চিতকরণ এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থানে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। আওয়ামী আমলেও যেমন সবার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন, আজও দ্বীন-হীন অবহেলিত মানুষের দরজায় দরজায় গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নিচ্ছেন— “কারও কোনো কষ্ট আছে কিনা?”
রাজনৈতিক নির্যাতনের পাশাপাশি শ্যামকূড় ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মাঝে এস এম আনিছুর রহমান লিটনের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। পূর্বে ১২ নম্বর শ্যামকূড় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দল-মত নির্বিশেষে বিপদে-আপদে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের প্রশাসনিক দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন।
তবে সামনে যখন আরো একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আসন্ন, তখন লিটনের মতো পরীক্ষীত ও ত্যাগী নেতাদের দিন কাটছে আশংকায়। বর্তমানে শ্যামকূড় ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত রয়েছে। এই সুযোগে সাম্প্রতিককালে কিছু সুবিধাবাদী ও আওয়ামী ঘরানার “হাইব্রিড” বিএনপি নেতা এই ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হওয়ার পাঁয়তারা করছে। এই ঘটনায় ইউনিয়নের ত্যাগী নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ ইউনিয়নবাসী অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও হতাশ।
শ্যামকূড় ইউনিয়ন বিএনপি এবং দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের ভোটারদের এখন একটাই দাবি— মনিরামপুর উপজেলা বিএনপি, যশোর জেলা বিএনপি ও দলীয় হাইকমান্ড যেন অবিলম্বে শ্যামকূড় ইউনিয়ন বিএনপিকে পুনরুজ্জীবিত করবে। একই সাথে এস এম আনিছুর রহমান লিটনের মতো বিগত ১৭ বছরের ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের চেয়ারম্যান পদে লড়াই করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছন তারা, যাতে ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন হয় এবং ইউনিয়নবাসী একজন আদর্শ চেয়ারম্যান লাভ করে।

ইউনিয়নের সাধারণ ভোটার ও বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের মতে— যিনি রাজপথে নিজের রক্ত দিয়েছেন, একাধিক মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, ক্রসফায়ারের চক্রান্ত থেকে বেঁচে ফিরেছেন এবং আন্দোলন করতে গিয়ে নিজের প্রিয় মাকেও হারিয়েছেন, সেই এস এম আনিছুর রহমান লিটনই শ্যামকূড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য সবচেয়ে যোগ্য ও পরীক্ষিত ব্যক্তি।

শ্যামকূড় ইউনিয়নের এক ছাত্রনেতা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন:
“লিটন ভাই শুধু একজন নেতা নন, ইউনিয়নের অভিভাবক। ইউনিয়নের যে কারোর বিপদে উনি সবসময় সবার আগে এগিয়ে আসেন। ইউনিয়নে বিএনপির অনেক নেতার কাছে গেলে আমাদের বোঝা মনে করেন, তবে উনি সেটা করেন না। মানুষ হিসেবে উনার মতো ভালো লোক হয় না।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ১ নম্বর ওয়ার্ডের এক সিনিয়র নেতা আশার সুরে বলেন:
“লিটনের মতো সৎ, ত্যাগী এবং দানশীল মানুষ আমাদের ইউনিয়নে আর একটিও নাই ভাই। কথাটা আপনার কাছে বাড়িয়ে বলা মনে হলেও এটা সত্য কথা। ইউনিয়নের যে কারোর কাছে যান, সবাই এই কথাই বলবে— বিএনপি করার জন্য ও মরতে বসেছিলো, বিএনপির জন্য লিটন তার মাকে হারাইছে; আমাদের ইউনিয়নে তার অনেক অবদান আছে।”
আসন্ন চেয়ারম্যান নির্বাচনে প্রার্থিতা ও নিজের রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে কথা বলেন জনাব এস এম আনিছুর রহমান লিটন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন:
“গত ১৭ বছর বিএনপির জন্য অনেক করেছি একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে, অনেক অত্যাচার সয়েছি। তবে ২০১৩ সালের পরে আওয়ামী হায়েনা বাহিনী আমার উপরে আছড়ে পড়ে। কী বলব ভাই, দল-মত ভেদাভেদ ভুলে আমি সবার পাশে সবসময় দাঁড়ানোর চেষ্টা করি এবং আমার এটা করতে ভালো লাগে। চেয়ারম্যান হলেও আমি এটা করব, না হলেও আমি এটা করে যাব। কারণ আমি যদি ভালো কাজ করি, তাহলে আমার দেখা দেখি নির্দলীয় অনেক লোক বিএনপিতে যোগ দেবে; বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে সেটাই আমার সার্থকতা।”
তিনি দৃঢ়তার সাথে আরও যোগ করেন:
“চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ইচ্ছা আমার আছে। তবে আমার কাছে সবার উপরে দলীয় সিদ্ধান্ত। জেলা ও উপজেলা বিএনপি যদি আমাকে শ্যামকূড়বাসীর সেবা করার জন্য চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেয়, আমি আমার দল ও নীতি নির্ধারকদের কখনো হতাশ করব না। আমি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নয়, এই ইউনিয়নের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে বলতে পারি— আমার শ্যামকূড়ের প্রতিটি মানুষের হাঁড়ির খবর আমার জানা আছে। কার বাসায় আজ দুপুরে চুলা জ্বলেছে আর কার জ্বলেনি, সব আমি জানি। আমাদের ইউনিয়নবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের অনেক কাজ এখনো বাকি। দল যদি আমাকে সুযোগ দেয়, তবে আগামী মাত্র ২ বছরের মধ্যে এই ইউনিয়নকে উপজেলার মধ্যে একটি সর্বশ্রেষ্ঠ ও আদর্শ ইউনিয়ন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব, ইনশাআল্লাহ। তবে সবার আগে কমিটিটা তো পুনরুজ্জীবিত বা নতুন কমিটি দিতে হবে। আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি, আমার প্রাণপ্রিয় সংগঠন বিএনপি আমাদের ইউনিয়ন বিএনপির প্রতি সদয় হবে।”
এলাকাবাসীর চরম প্রত্যাশা— অতীতের সকল অন্যায়-অবিচার, জুলুম ও স্বজন হারানোর বেদনার উপযুক্ত জবাব দিতে আসন্ন নির্বাচনে সর্বস্তরের জনগণ একাট্টা হয়ে ভোট দিয়ে এস এম আনিছুর রহমান লিটনকে বিজয়ী করবে এবং শ্যামকূড় ইউনিয়নের সার্বিক সেবায় পুনরায় আত্মনিয়োগ করার পূর্ণ সুযোগ করে দেবে।

Tag :
About Author Information

Popular Post

ডুমুরিয়ায় মানকচু বাম্পার ফলন: কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

রাজপথের রক্তভেজা দিন থেকে জনসেবা: শ্যামকূড় ইউনিয়ন বিএনপির কান্ডারী ও জীবন্ত কিংবদন্তি এস এম আনিছুর রহমান লিটন

Update Time : 12:06 am, Monday, 17 August 2026

বিশেষ প্রতিনিধি, মনিরামপুর:

পিচঢালা রাজপথ যখন তপ্ত রোদের প্রখর তাপদাহে পুড়ে ছারখার হয় কিংবা শ্রাবণের মরণকামড় বসানো মুষলধারার বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হয়ে যায়, তখন সুবিধাবাদী একদল মানুষ নিরাপদে ঘরে ফিরে যায়। কিন্তু কিছু ব্যতিক্রমী মানুষ থেকে যান, যাদের নির্দিষ্ট কোনো ঘর বলে কিছু থাকে না। যাদের ঠিকানা হয়ে ওঠে রাজপথ, মিছিলের অগ্নিকাণ্ড, মিছিলে উচ্চারিত স্লোগানের তীব্র কম্পন আর শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের আপসহীন সংগ্রাম।
গত ১৭ বছরের অবর্ণনীয় ফ্যাসিবাদের জগদ্দল পাথর ও অন্ধকার বুকে চেপে যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার ১২ নম্বর শ্যামকূড় ইউনিয়ন বিএনপির তেমনই এক বিশ্বস্ত কান্ডারী ও জীবন্ত কিংবদন্তির নাম— এস এম আনিছুর রহমান লিটন। যিনি শ্যামকূড় ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক বিপ্লবী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ১২ নম্বর শ্যামকূড় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতা, নিষ্ঠা, সততা ও দক্ষতার সাথে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিগত শাসনামলে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে এস এম আনিছুর রহমান লিটন রাজপথে সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। আর এই সক্রিয় ও আপসহীন ভূমিকার কারণেই তৎকালীন শাসকদল ও স্থানীয় প্রশাসনের চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রধান শিকার হতে হয়েছে তাঁকে।তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করতে এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমাতে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়। বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, গাড়ি পোড়ানো, গাড়ি ভাঙচুর এবং নানাবিধ নাশকতার একাধিক সাজানো মামলায় জড়ানো হয় তাঁকে। অসংখ্য মামলার হুলিয়া ও আইনি হয়রানি সত্ত্বেও তিনি এক মুহূর্তের জন্যও রাজপথ কিংবা জাতীয়তাবাদী আদর্শ থেকে পিছপা হননি।
এস এম আনিছুর রহমান লিটনের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাস এক চিরস্মরণীয় বেদনাবিধুর ও রক্তাঙ্কিত অধ্যায়।২০১৩ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর রাতে মনিরামপুর বাজার থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে পথিমধ্যে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাঁর ওপর অতর্কিত ও নৃশংস হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা তাঁকে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে এবং মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়।হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার: সারারাত নিথর পড়ে থাকার পর দিনভোরে স্থানীয় এলাকাবাসী তাঁকে হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন। লিটন ছিলেন তাঁর মায়ের একমাত্র সন্তান। হাসপাতালে প্রিয় সন্তানের রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থা দেখে সেই তীব্র মানসিক আঘাত সহ্য করতে পারেননি তাঁর রত্নগর্ভা মা। সন্তানের শয্যাপাশেই তাৎক্ষণিক হৃদরোগে (হার্ট অ্যাটাক) আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

দলের আদর্শ ও রাজপথের জন্য নিজের রক্ত দেওয়ার পাশাপাশি মাতৃবিয়োগের এই অপূরণীয় ক্ষত লিটনের জীবনকে চিরদিনের জন্য বদলে দেয়।মায়ের শোক বুকে চেপেও লিটন রাজপথের লড়াকু অবস্থান থেকে বিন্দুপরিমাণ সরেননি। ফলশ্রুতিতে তাঁর ওপর তৎকালীন ক্ষমতার অপব্যবহারকারী চক্রের নির্যাতনের মাত্রা আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
২০১৪ সালের ১৫ই জানুয়ারি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য (এমপি) টিপু সুলতানের প্রত্যক্ষ নির্দেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর (র‍্যাব) একটি দল লিটনকে ‘ক্রসফায়ার’ দেওয়ার উদ্দেশ্যে চারদিক থেকে ঘেরাও করে এবং আক্রমণ চালায়। অলৌকিকভাবে লিটন সেই সন্ত্রাসী আক্রমণ থেকে নিজের প্রাণ বাঁচিয়ে সরে যেতে সক্ষম হন। তবে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে না পেরে ক্ষোভে-আক্রোশে তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিতে আগুন ধরিয়ে ভস্মীভূত করে দেয় বাহিনীটি।
গত ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের পর যখন চারদিকে অনেকেই নিজের আখের গোছাতে আর ক্ষমতার মোহে মত্ত, এস এম আনিছুর রহমান লিটন তখন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষের সেবায়।একদিকে তিনি শ্যামকূড় ইউনিয়ন বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে সুদৃঢ় করছেন, অন্যদিকে ইউনিয়নের স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে হাত দিয়েছেন।
প্রবীণদের বয়স্ক ভাতা নিশ্চিতকরণ এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থানে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। আওয়ামী আমলেও যেমন সবার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন, আজও দ্বীন-হীন অবহেলিত মানুষের দরজায় দরজায় গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নিচ্ছেন— “কারও কোনো কষ্ট আছে কিনা?”
রাজনৈতিক নির্যাতনের পাশাপাশি শ্যামকূড় ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মাঝে এস এম আনিছুর রহমান লিটনের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। পূর্বে ১২ নম্বর শ্যামকূড় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দল-মত নির্বিশেষে বিপদে-আপদে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের প্রশাসনিক দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন।
তবে সামনে যখন আরো একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আসন্ন, তখন লিটনের মতো পরীক্ষীত ও ত্যাগী নেতাদের দিন কাটছে আশংকায়। বর্তমানে শ্যামকূড় ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত রয়েছে। এই সুযোগে সাম্প্রতিককালে কিছু সুবিধাবাদী ও আওয়ামী ঘরানার “হাইব্রিড” বিএনপি নেতা এই ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হওয়ার পাঁয়তারা করছে। এই ঘটনায় ইউনিয়নের ত্যাগী নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ ইউনিয়নবাসী অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও হতাশ।
শ্যামকূড় ইউনিয়ন বিএনপি এবং দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের ভোটারদের এখন একটাই দাবি— মনিরামপুর উপজেলা বিএনপি, যশোর জেলা বিএনপি ও দলীয় হাইকমান্ড যেন অবিলম্বে শ্যামকূড় ইউনিয়ন বিএনপিকে পুনরুজ্জীবিত করবে। একই সাথে এস এম আনিছুর রহমান লিটনের মতো বিগত ১৭ বছরের ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের চেয়ারম্যান পদে লড়াই করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছন তারা, যাতে ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন হয় এবং ইউনিয়নবাসী একজন আদর্শ চেয়ারম্যান লাভ করে।

ইউনিয়নের সাধারণ ভোটার ও বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের মতে— যিনি রাজপথে নিজের রক্ত দিয়েছেন, একাধিক মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, ক্রসফায়ারের চক্রান্ত থেকে বেঁচে ফিরেছেন এবং আন্দোলন করতে গিয়ে নিজের প্রিয় মাকেও হারিয়েছেন, সেই এস এম আনিছুর রহমান লিটনই শ্যামকূড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য সবচেয়ে যোগ্য ও পরীক্ষিত ব্যক্তি।

শ্যামকূড় ইউনিয়নের এক ছাত্রনেতা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন:
“লিটন ভাই শুধু একজন নেতা নন, ইউনিয়নের অভিভাবক। ইউনিয়নের যে কারোর বিপদে উনি সবসময় সবার আগে এগিয়ে আসেন। ইউনিয়নে বিএনপির অনেক নেতার কাছে গেলে আমাদের বোঝা মনে করেন, তবে উনি সেটা করেন না। মানুষ হিসেবে উনার মতো ভালো লোক হয় না।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ১ নম্বর ওয়ার্ডের এক সিনিয়র নেতা আশার সুরে বলেন:
“লিটনের মতো সৎ, ত্যাগী এবং দানশীল মানুষ আমাদের ইউনিয়নে আর একটিও নাই ভাই। কথাটা আপনার কাছে বাড়িয়ে বলা মনে হলেও এটা সত্য কথা। ইউনিয়নের যে কারোর কাছে যান, সবাই এই কথাই বলবে— বিএনপি করার জন্য ও মরতে বসেছিলো, বিএনপির জন্য লিটন তার মাকে হারাইছে; আমাদের ইউনিয়নে তার অনেক অবদান আছে।”
আসন্ন চেয়ারম্যান নির্বাচনে প্রার্থিতা ও নিজের রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে কথা বলেন জনাব এস এম আনিছুর রহমান লিটন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন:
“গত ১৭ বছর বিএনপির জন্য অনেক করেছি একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে, অনেক অত্যাচার সয়েছি। তবে ২০১৩ সালের পরে আওয়ামী হায়েনা বাহিনী আমার উপরে আছড়ে পড়ে। কী বলব ভাই, দল-মত ভেদাভেদ ভুলে আমি সবার পাশে সবসময় দাঁড়ানোর চেষ্টা করি এবং আমার এটা করতে ভালো লাগে। চেয়ারম্যান হলেও আমি এটা করব, না হলেও আমি এটা করে যাব। কারণ আমি যদি ভালো কাজ করি, তাহলে আমার দেখা দেখি নির্দলীয় অনেক লোক বিএনপিতে যোগ দেবে; বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে সেটাই আমার সার্থকতা।”
তিনি দৃঢ়তার সাথে আরও যোগ করেন:
“চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ইচ্ছা আমার আছে। তবে আমার কাছে সবার উপরে দলীয় সিদ্ধান্ত। জেলা ও উপজেলা বিএনপি যদি আমাকে শ্যামকূড়বাসীর সেবা করার জন্য চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেয়, আমি আমার দল ও নীতি নির্ধারকদের কখনো হতাশ করব না। আমি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নয়, এই ইউনিয়নের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে বলতে পারি— আমার শ্যামকূড়ের প্রতিটি মানুষের হাঁড়ির খবর আমার জানা আছে। কার বাসায় আজ দুপুরে চুলা জ্বলেছে আর কার জ্বলেনি, সব আমি জানি। আমাদের ইউনিয়নবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের অনেক কাজ এখনো বাকি। দল যদি আমাকে সুযোগ দেয়, তবে আগামী মাত্র ২ বছরের মধ্যে এই ইউনিয়নকে উপজেলার মধ্যে একটি সর্বশ্রেষ্ঠ ও আদর্শ ইউনিয়ন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব, ইনশাআল্লাহ। তবে সবার আগে কমিটিটা তো পুনরুজ্জীবিত বা নতুন কমিটি দিতে হবে। আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি, আমার প্রাণপ্রিয় সংগঠন বিএনপি আমাদের ইউনিয়ন বিএনপির প্রতি সদয় হবে।”
এলাকাবাসীর চরম প্রত্যাশা— অতীতের সকল অন্যায়-অবিচার, জুলুম ও স্বজন হারানোর বেদনার উপযুক্ত জবাব দিতে আসন্ন নির্বাচনে সর্বস্তরের জনগণ একাট্টা হয়ে ভোট দিয়ে এস এম আনিছুর রহমান লিটনকে বিজয়ী করবে এবং শ্যামকূড় ইউনিয়নের সার্বিক সেবায় পুনরায় আত্মনিয়োগ করার পূর্ণ সুযোগ করে দেবে।