বিশেষ প্রতিনিধি, যশোর :
রাজনীতির ইতিহাসে কিছু নাম থাকে যা কেবল পদের মোহ বা উপাধিতে সীমাবদ্ধ থাকে না—যাদের পুরো জীবনটাই হয়ে ওঠে ত্যাগ, আদর্শ ও সংগ্রামের এক অনন্য দলিল। যশোর জেলার শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী ৮ নম্বর বাগআঁচড়া ইউনিয়নের রাজনীতির মাঠে এমনই এক চিরচেনা ও আপসহীন ব্যক্তিত্ব—জনাব মো: জাহাঙ্গীর হোসেন। রাজপথের লড়াই থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার মাধ্যমে তিনি নিজের নামকে ফুটিয়ে তুলেছেন রাজপথের পরীক্ষিত নেতা হিসেবে। যদি শার্শা উপজেলার শীর্ষ পাঁচটি নিষ্ঠাবান ও ত্যাগী বিএনপি পরিবারের তালিকা করা হয়, তবে নিশ্চিতভাবেই তাঁর পরিবারটি থাকবে অগ্রভাগে।
জাহাঙ্গীর হোসেনের রাজনৈতিক সত্তার মূলে রয়েছে পরিবারিক ঐতিহ্য। তাঁর প্রয়াত পিতা জনাব কাছেদ আলী ছিলেন ইউনিয়ন কৃষক দলের সাবেক সভাপতি, শার্শা থানা ওলামা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের পরপর ৩ বার নির্বাচিত জনপ্রিয় ইউপি সদস্য। বর্তমানে তাঁর ছোট ভাই শার্শা থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয়। অন্যদিকে, জাহাঙ্গীর হোসেন নিজে বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির টানা ৩ বারের নির্বাচিত সফল সাধারণ সম্পাদক।
তবে আজকের এই অবস্থানে আসার পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। ছাত্রজীবনে বাবার রাজনৈতিক আদর্শ দেখে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রদলের মাধ্যমে তাঁর পথচলা শুরু। ২০১১ সালে ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার হিসেবে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়াই করে জনরায়ে বিজয়ী হলেও, রাতের আঁধারে ষড়যন্তের মাধ্যমে তাঁর সেই অর্জন কেড়ে নেওয়া হয়।
বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম অগ্রসৈনিক ছিলেন জাহাঙ্গীর হোসেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়া যশোরের দেবহাটায় সফরের আগের দিন রাতে, বাগআঁচড়া বাজারের ময়ূরী সিনেমা হলের সামনে প্রস্তুতি সভা চলাকালে তাঁর ওপর প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা চালায় বর্বরোচিত হামলা। রাইফেলের বাট দিয়ে আঘাত করে তাঁর হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়। মৃত্যুর দুয়ার থেকে অলৌকিকভাবে ফিরে এলেও তাঁর হৃদযন্ত্রে বসাতে হয় দুটি রিং।
কিন্তু শারীরিকভাবে পঙ্গু করার চেষ্টা কিংবা মানসিক নির্যাতন কোনো কিছুই তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাস থেকে তাঁকে এক চুল সরাতে পারেনি। বিগত সময়ে তাঁর বাসভবনে ভাঙচুর চালানো হয়েছে অন্তত ১০ বার, দায়ের করা হয়েছে ৭টিরও বেশি রাজনৈতিক মামলা। ঘরবাড়ি ছেড়ে যশোরের ধানখেত আর বন-জঙ্গলে কাটাতে হয়েছে দিনের পর দিন। নিজে ফেরারী আসামি হয়েও রাজপথের গ্রেপ্তারকৃত সহযোদ্ধাদের পরিবারের ভরণপোষণ ও চিকিৎসার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি নিজ দায়িত্বে।
ঐতিহাসিক ৫ই আগস্টের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কিংবা ২৪-এর উত্তাল জুলাই-আগস্টে যখন রাজপথ ছিল থমথমে, তখনও প্রাণের তোয়াক্কা না করে রাজপথে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তবে শুধু রাজনীতিই নয়, একজন সমাজসেবক ও দানশীল ব্যক্তি হিসেবেও বাগআঁচড়ায় তাঁর দারুণ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। মাদকবিরোধী আন্দোলন, যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালনা, মসজিদ-মাদ্রাসা ও মন্দিরের সংষ্কার এবং সাধারণ মানুষের যেকোনো প্রয়োজনে তাঁর সাহায্যের হাত সবসময় উন্মুক্ত। আর তাইতো আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বাগআঁচড়া ইউনিয়নের অধিকাংশ বিএনপির নেতা কর্মী এবং আবাল বৃদ্ধ বনিতা সবার একটাই চাওয়া- মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন কে তারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এর চেয়ারে যার দ্বারা তাদের দীর্ঘদিনের আশা আকাংখার প্রতিফলন ঘটবে।
জাহাঙ্গীর হোসেন এর চেয়ারম্যান পদে দাঁড়ানো নিয়ে এক যুবনেতা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান:
“জাহাঙ্গীর ভাই শুধু একজন নেতাই নন, তিনি আমাদের পুরো ইউনিয়নের অভিভাবক। বিপদে-আপদে ডাকলেই যাকে সবার আগে পাশে পাওয়া যায়, এমন একজন উদার ও সৎ মনের মানুষ রাজনীতিতে বিরল।”
ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের এক প্রবীণ কর্মী স্মৃতিচারণ করে বলেন:
“সন্ত্রাসী বাহিনী যেভাবে উনাকে আঘাত করেছিল, আমরা ভেবেছিলাম উনি আর ফিরবেন না। কেবল আল্লাহর অশেষ রহমত আর মানুষের দোয়ায় তিনি বেঁচে আছেন। এমন ত্যাগী মানুষের হাতেই আমাদের ইউনিয়নের দায়িত্ব থাকা উচিত।”
নিজের দীর্ঘ ত্যাগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা হয় জনাব মো: জাহাঙ্গীর হোসেন এর সাথে, এক বুক আশা নিয়ে তিনি বলেন:
“গত ১৭ বছর ধরে দলের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে রক্ত ও ঘাম দিয়েছি। আমার পুরো পরিবার জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। কিন্তু মানুষের সেবা করাটা আমার কাছে ভালোবাসার জায়গা। পদ-পদবী আমার মূল লক্ষ্য নয়; যদি আমার প্রাণের সংগঠন বিএনপি এবং বাগআঁচড়ার সাধারণ জনগণ আমাকে চায়, তবেই আমি নির্বাচনে অংশ নেব। মহান আল্লাহর রহমতে নির্বাচিত হতে পারলে মাদক, চোরাচালান ও জলাবদ্ধতা দূর করে আগামী ২ বছরের মধ্যে বাগআঁচড়াকে যশোর জেলার একটি দৃষ্টিনন্দন ও মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করব, ইনশাআল্লাহ।”
প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলের পতাকা আঁকড়ে ধরে রাখা এবং জনগণের সুখে-দুঃখে ঢাল হয়ে দাঁড়ানোই জাহাঙ্গীর হোসেনকে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে দিয়েছে। জেল, জুলুম, রক্তক্ষরণ আর মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার এই দীর্ঘ গল্প কেবল একজন ব্যক্তির নয়, বরং তা বাগআঁচড়ার সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের এক অদম্য প্রতীক। ইউনিয়নের মানুষের বিশ্বাস—যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই করতে পারেন, সুযোগ পেলে তিনিই পারবেন বাগআঁচড়াকে একটি নিরাপদ, মাদকমুক্ত ও আধুনিক আদর্শ জনপদে পরিণত করতে।

Reporter Name 



















